ChatCrawlersearch across public Telegram Open the app
S

Sirah (Comments)

сообщение · 2026-07-14 15:29 UTC
I
শায়খ উমায়ের কোব্বাদি, উনার জীবনের একটি ঘটনার বর্ণনায় বলেন, (উনি যেভাবে বলেছিলেন, হুবহু তুলে ধরা হয়েছে) আমি (উমায়ের কোব্বাদি) আমার জীবনের একটি ঘটনা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। আল্লাহর কসম, আমার জীবনে যত ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে এই ঘটনাটিই আমার অন্তরকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে। আজও যখন সেই দৃশ্যটি মনে পড়ে, তখন নিজেকে স্থির রাখতে খুব কষ্ট হয়। অন্তরের গভীরে এক অজানা ভয় কাজ করতে শুরু করে। ঘটনাটি আজ থেকে বেশ কয়েক বছর আগের। একদিন আসরের নামায আদায় করে মসজিদে বসে ছিলাম। এমন সময় একজন ভাই আমার কাছে এসে বললেন, হুজুর, আমার বাবা খুবই অসুস্থ। তিনি মৃ*ত্যুশয্যায় আছেন। আপনি যদি একটু কষ্ট করে আমাদের বাসায় যান এবং তাঁর হাতে তাওবা করিয়ে দেন। আসলে মৃ*ত্যুপথযাত্রী মানুষকে তাওবার তালকীন করা আমাদের আকাবির ও আসলাফের একটি সুন্দর আমল ছিল। আমাদের বুযুর্গ হযরত শামসুল হক ফরিদপুরী রহ.-এর ব্যাপারে শুনেছি—তাঁর একটি অভ্যাস ছিল, তিনি লালবাগ মাদরাসার সিনিয়র ছাত্রদের প্রতি বৃহস্পতিবার ছুটি দিয়ে বলতেন, 'তোমরা বিভিন্ন হাসপাতালে যাও। রোগীদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করো—কেউ যদি তাওবা করতে চান, তাহলে তাঁকে তাওবা করিয়ে দাও।' বর্তমানে যেমন বৃহস্পতিবারে অনেক মাদরাসা থেকে ২৪ ঘণ্টার দাওয়াত জামাত বের হয়, তেমনি তিনি ছাত্রদের হাসপাতালমুখী করতেন, যেন তারা মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের আখিরাতের প্রস্তুতিতে সহযোগিতা করতে পারে। এটি ছিল আমাদের আকাবিরদের একটি সুন্দর ঐতিহ্য। যাই হোক, আমি সেই ভাইকে বললাম, চলুন। আমরা রিকশায় করে তাঁর বাসার দিকে রওনা হলাম। পথিমধ্যে বিভিন্ন কথা হচ্ছিল। একপর্যায়ে তিনি বললেন, হুজুর, আব্বা খুবই অসুস্থ। ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না, কাউকেও ভালোভাবে চিনতে পারেন না। আমি মনে মনে ভাবলাম, তাহলে হয়তো শুধু তাওবার বাক্যগুলো শুনিয়ে দিলেই হবে। বাসায় পৌঁছালাম। পুরোনো দিনের একটি বাড়ি। ঘরে প্রবেশ করে তাঁর বাবার পাশে গিয়ে বসলাম। সালাম দিলাম। সালামের উত্তর দিয়েছিলেন কি না, এখন আর মনে নেই। আমি খুব কোমলভাবে বললাম, চাচা, আমি এসেছি আপনাকে তাওবা করিয়ে দিতে। আমার কথা শেষ হতেই তিনি এমন একটি উত্তর দিলেন, যা আজও আমার কানে বাজে। একেবারে স্পষ্ট, দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, আমি তাওবা করব না। আমি যেন হতবাক হয়ে গেলাম। মনে হলো, বুকের ভেতর কেউ হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করছে। আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না, মৃ*ত্যুশয্যায় থাকা একজন মানুষ এমন কথা কীভাবে বলতে পারেন! এরপর আমি তাঁর ছেলের দিকে তাকালাম। চোখের ভাষায় যেন বলতে চাইলাম, আপনি তো বলেছিলেন, উনি কথা বলতে পারেন না! এখন তো খুব পরিষ্কার করেই কথা বলছেন! ছেলেও অসহায়ভাবে ইঙ্গিত করল, হুজুর, আমিও কিছু বুঝতে পারছি না। আমি আবার তাঁর দিকে ফিরে বললাম,ৎচাচা, তাওবা করবেন না কেন? এরপর তাওবার ফজিলত নিয়ে খুব সংক্ষেপে—এক মিনিট বা দেড় মিনিটের মতো কিছু কথা বললাম। কারণ মৃ*ত্যুপথযাত্রীর সামনে দীর্ঘ নসিহত করা সুন্নাহর পরিপন্থী। কিন্তু তিনি আবারও একই কথা বললেন—আমি পারব না। এবার আমি কিছুটা কঠোর হয়ে বললাম, কেন পারবেন না? আপনার সমস্যা কী? আমার প্রশ্ন শুনে তিনি হঠাৎ শিশুর মতো কান্না শুরু করলেন। চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝরছে। কাঁপা কণ্ঠে তিনি জানালার উপরের সানশেডের দিকে আঙুল তুলে বললেন, হুজুর... আমি তাওবা করব কীভাবে? দেখেন... ওইখানে একজন ভয়ংকর লোক মুগুর হাতে বসে আছে। সে আমাকে বলছে, 'তুই যদি তাওবা করিস, তাহলে এই মুগুর দিয়ে তোকে মে*রে ফেলব। আল্লাহু আকবার! আমি তাকিয়ে দেখলাম, সেখানে তো কিছুই নেই। কিন্তু তিনি যা দেখছিলেন, তা তাঁর কাছে ছিল বাস্তবের চেয়েও বাস্তব। সেদিন আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করলাম—মৃ-ত্যুর মুহূর্ত কত ভয়াবহ হতে পারে! শয়তান শেষ সময় পর্যন্ত মানুষের ঈমান কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তাই কেউই নিজের ঈমান নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারে না। কার মৃ*ত্যু কোন অবস্থায় হবে, শেষ মুহূর্তে কী পরীক্ষা আসবে—এ কথা পৃথিবীর কোনো মানুষ বলতে পারে না। এই কারণেই সালাফে সালিহীন সবসময় একটি দোয়া করতেন— হে আল্লাহ! আমাদেরকে ঈমানের ওপর অটল রাখুন এবং ঈমানের সাথেই আমাদের মৃ*ত্যু দান করুন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সুস্থ জীবন দান করুন, ঈমানের ওপর অবিচল রাখুন এবং ঈমানের সাথেই আমাদের দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন। লেখা : শায়খ উমায়ের কোব্বাদি #Sirah
2.2K ·

Вся лента

Каталог площадок Искать в ChatCrawler

A snapshot of an open public feed from the search index ChatCrawler — “Google for public Telegram”; refreshed as the venue is crawled. Times are UTC.

Public content only, official Telegram API. About · FAQ · What we do not do · Remove a page · Catalog