উত্তরাখণ্ডের খটিমায় জন্ম নেহা বোরার। বাবার চাকরির কারণে ছোটবেলার একটা সময় কেটেছে পশ্চিমবঙ্গেও। বাবা ভারতীর সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মা গৃহিণী।
নেহা নিজেও কয়েকটি সাক্ষাৎকারে বলেছে, ছোট বেলা থেকে দেখে এসেছেন তার পরিবার বিজেপির রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী।
কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেহা নিজের পথ নিজেই বেছে নিয়েছেন।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অরবিন্দো কলেজে পড়েছেন। এরপর ড. বি আর আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স। এখন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্টস এর পিএইচডি গবেষক।
ছাত্রজীবনের শুরুতেই যুক্ত হয়ে যান বামপন্থী ছাত্র সংগঠন AISA তে। সেই পথ ধরে আজ তিনি সংগঠনটির জাতীয় সভাপতি।
গত কয়েক মাসে ভারতের ছাত্র আন্দোলনের রাজনীতিতে নেহা বরা হঠাৎ করেই খুব পরিচিত একটি মুখ হয়ে উঠেছেন।
নেহাকে আমি প্রথম ফেসবুক রিলসে দেখতে পাই
দিল্লির জন্তর মন্তরে ২৩ দিনের অনশনের সময়কার ভিডিওতে।
ভারতের প্রখ্যাত অভিনেত্রী শাবানা আজমি অনশনরত শুয়ে থাকা নেহার হাত ধরে কথা বলছেন এমন একটি ভিডিওতে।
এরপর ভিন্নভন্ন ছাত্র আন্দোলনে তার সরাসরি উপস্থিতি, ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনে অংশ নেওয়া, এমনকি আন্দোলনের মিছিলে তাঁর দিকে কালি ছুড়ে দেওয়ার ঘটনা গুলো তো তাকে ধীরে ধীরে সর্বত্র পরিচিত করে তুলে।
তাছাড়া ভারতীয় মিডিয়াতে এক প্রকার সেন্সর এবং অচ্ছুৎ হয়ে থাকা কারান্তরীন ছাত্রনেতা ওমর খালিদ ,শারজিল এর মুক্তি চেয়ে দেয়া নেহার সাহসী বক্তব্য~ সাক্ষাৎকার গুলো দেখবার পর ওর ফেসবুক ,ইনাস্ট্রা একাউন্ট খুজে ফলো দিয়ে রেখেছিলাম।
নেহা বোরার চিন্তা,আদর্শ আমার সাথে বা আমাদের অনেকের সাথে হয়তো সম্পুর্ণ আলাদা।
কিন্তু একটা জিনিস অস্বীকার করার উপায় নেই; নিজের পরিবার, নিজের চারপাশ কিংবা প্রচলিত নিরাপদ পথের সঙ্গে মিল না থাকলেও নিজের বিশ্বাসকে বেছে নেওয়ার সাহস সবার থাকে না।
কয়েকমাস আগে 'নিট পেপার লিক' এর সফল আন্দোলন পরবর্তী ভারতীয় নির্বাচন কমিশনার এর পদত্যাগ দাবীতে চলমান আন্দোলনের চেহারা উঠেছে এই 'নেহা বোরা'।
রাজনীতির ইতিহাসে প্রতিটি প্রজন্মে এমন কিছু মুখ আসে, যারা শুধু কোনো সংগঠনের পদধারী হয়ে থাকে না। একটা সময় তাদের মুখের সঙ্গে একটা সময়ের গল্প জড়িয়ে যায়।
কেউ তাদের ভালোবাসে, কেউ বিরোধিতা করে। কেউ তাদের সাহস বলে, কেউ তাদের ভুল বলে মনে করে।
~তবু তারা আলোচনায় থেকে যায়।
কারণ ইতিহাসে সব মানুষকে মনে রাখা হয় না। কিন্তু প্রতিটি প্রজন্মে এমন কিছু মানুষ উঠে আসে, যাদের মুখ একসময় শুধু একজন ব্যক্তির পরিচয় থাকে না।
~সেই মুখ হয়ে ওঠে একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি।
❤3
43 ·