২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জেরুজালেমের যীশু খ্রীষ্টের “সমাধি” বা সেপাল্কারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলাম।
ভেতরে একজন একজন করে ঢুকতে দেয়। অনেক ক্যাথলিক ভেতরে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে। তবে প্রটেস্ট্যান্টরা এখানে যীশুর কবর রয়েছে বলে মানে না।
যীশুখ্রীষ্টকে তার শিষ্যরা তারই এক ধনাঢ্য অনুসারীর জন্য তৈরি পাথুরে সমাধির ভেতরে সমাহিত করে। এসকল অংশ একসময় একটা ছোট টিলা বা পাহাড়ের অংশ ছিল।
রোম সাম্রাজ্য খ্রীষ্টধর্মে দীক্ষিত হবার পর রাজমাতা হেলেনা এখানে যীশুর নানা স্মৃতির সন্ধান করেন এবং খুঁজেও পান। এ স্থানে তখন একটি চার্চ নির্মাণ শুরু হয়।
কালের পরিক্রমায় নানা পরিবর্তনের পর সেটাই এখন ক্যাথলিকদের তীর্থস্থান চার্চ অফ দ্য হোলি সেপাল্কার। আর সেই সমাধি-গুহাটির চারপাশ কেটে তৈরি হয়েছে এই কক্ষ “সেপাল্কার।”
অবশ্য সমাহিত হবার তিনদিন পর গুহার মুখের বড় পাথরটি নাকি সরানো অবস্থায় পান তার অনুসারীরা— এবং ভেতরে তার মৃতদেহও অদৃশ্য!
সামনে যে ছোট ঘরটি দেখা যাচ্ছে, তার ভেতরেই যীশুর কবর। দরজার সামনে বেশ বড় বড় সোনার মোমবাতিদানি রাখা। তার ওপরে যীশুর কবর থেকে পুনরুত্থানের ছবি দেখা যাচ্ছে।
চারপাশে গ্রীক ভাষায় বাইবেলের বিভিন্ন পংক্তি। গীর্জার এই জায়গাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং দেখতে খুব সুন্দর। ভেতরে ঢুকেও অনেকে মোমবাতি জ্বালে।
ভেতরটা বেশ ছোট এবং অন্ধকার। ছবি তোলার অনুমতি নেই। শুধুমাত্র মোমবাতি এবং কিছু প্রদীপের আলোতে ভেতরটা দেখা যাচ্ছিল।
ঘরের ভেতরে একটি পাথরের প্ল্যাটফর্ম — বলা হয় তার ওপরই যীশুখ্রীষ্টের দেহ রক্ষিত ছিল। কয়েক বছর আগে গবেষণার মাধ্যমে ওপরের ক্রুসেডার যুগীয় স্তর সরিয়ে খ্রীষ্টীয় প্রথম শতকের আস্তর পাওয়া গেছে।
অর্থাৎ হেলেনা তিনশ বছর পরে খুঁজে পেলেও এটা খুবই সম্ভব যে তিনি সঠিক স্থানটিই খুঁজে পেয়েছেন।
জেরুজালেম, সেপ্টেম্বর ২০২২
@ Jarir Fadlullah
61 · Message২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জেরুজালেমের যীশু খ্রীষ্টের “সমাধি” বা সেপাল্কারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলাম।
5 October 2026Nearby in the feed
Wthis message
W