এই প্রসঙ্গে মধ্যযুগ বিশেষজ্ঞ মমতাজুর রহমান তরফদার বলেন যে হোসেন শাহী সুলতানদের ধ্যান জ্ঞান ছিল ল্যান্ড বেইজড রেভেন্যু। সমুদ্রবাণিজ্যে তাদের আগ্রহ ছিল না।
এখন আসেন ২০২৬ সালের আলাপ করি।
বাঙলাদেশের দৈনিক গ্যাস কনসাম্পশন হলো ২২শ মিলিয়ন ঘনফুট। মিয়ানমার আমাদের দৈনিক চাহিদার ২৫% গ্যাস ডেইলি বঙ্গোপসাগর থেকে উত্তোলন করে। ভারত তাদের সাগর থেকে যা উত্তোলন করে সেটা আমাদের দৈনিক চাহিদার ৫০%। আর এদিকে আমরা সমুদ্র নিয়ে চিন্তাই করি না।
গভীর সমুদ্রে ফিশিং এর কথায় আসি। থাইল্যান্ড, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার সবাই গভীর সমুদ্রে গিয়ে মাছ ধরে। আর আমরা ৪০ কিলোমিটার ক্রস করতে পারিনা। বাকি ১৮০০ কিলোমিটার মাছ ধরে আমাদের প্রতিবেশীরা।
আপনাদের নিশ্চয়ই সাবেক আইজিপি বেনজীরের কথা মনে আছে। দূর্নীতি করে এই লোক অনেক অনেক টাকার মালিক হয়েছে। কিন্তু টাকা দিয়ে সে কী করবে তা নিয়ে কোন ধারণা ছিল না। সে সাড়ে ৩০০ বিঘা জমি কিনেছে। সে কোথাও কোন ইনোভেটিভ বিনিয়োগ করেনাই। ওয়ার্ল্ড ট্যুর দেয় নাই। অ্যান্টিক কালেকশন কিনে নাই। সে জমি কিনেছে।
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী শুধু ব্রিটেনে বাড়ি আর ফ্ল্যাট কিনেছে ৫১৮টা। বাকি দেশের কথা আর নাই বললাম।
আর এটা শুধু বেনজীর আর সাইফুজ্জামান না। সবাই করে। বাঙলাদেশে কারও টাকা হলেই সে বুঝতে পারে না ভালো ইনভেস্টমেন্ট কীসে হবে। কয়েকজন বন্ধু মিলে তারা একটা ডেভলপার কম্পানি বানায়।
কারণ বংশ পরম্পরায় বাঙালি মার্চেন্ট রেস না। বাঙালি কৃষক রেস, প্রজা রেস অথবা জমিদার রেস। সে ব্যবসা বুঝে না, জমি বুঝে। তাই সে জমি কিনে।
আপনি ঢাকার বাড়িওয়ালাদের আচরণ দেখেন। কোন জিনিস ভাড়া নিলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেই জিনিসটা আপনার। কিন্তু বাড়িভাড়ার ক্ষেত্রে বাড়ি কোনদিন আপনার না। সকাল ৬টার আগে বের হতে দিবে না। রাতে ১১টার পর ঢুকতে দিবে না। সারারাত কারারুদ্ধ করে রাখবে। চারদিকে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে দেখবে আপনার বাসায় কোন মেহমান আসলো। আপনি কোথায় যান, কী রান্না করেন, কী পোষাক পরেন তার উপর নজরদারি করবে। ছাদে উঠতে দিবে না, ঠিকমতো পানি সাপ্লাই দিবে না, দেয়ালে ড্রিল করতে দিবে না, ব্যাচেলর কাওকে ভাড়া দিবে না, হিন্দু কাওকে ভাড়া দিবে না।
পারলে রুল জারি করতো যে তিন তলা দিয়ে নামার সময় নিঃশব্দে নামতে হবে, জুতা পরে নামা যাবে না, তিন তলা ক্রস করার সময় জুতা হাতে নিতে হবে।
পৃথিবীর সবচেয়ে পিকুইলিয়ার বাড়িওয়ালা হলো ঢাকার বাড়িওয়ালা সমাজ। ঢাকার বাড়িওয়ালারা এই খাসলত পাইলো কোথায়?
উত্তর হলো জমিদারি প্রথায়। বংশপরম্পরায় তারা হয় প্রজা ছিলেন নাহয় জমিদার ছিলেন। প্রায় ৫০০ বছর এই অভ্যাসের মধ্যে থাকার পর ঢাকার বাড়িওয়ালারা এই স্মৃতি ভুলতে পারেন না। ভাড়াটিয়ার সাথে জমিদারের মত আচরণ করেন। ভাড়াটিয়াকে সে মনে করে রাইওত। ভাড়াটিয়াও টর্চারের জ্বালায় সারাজীবন স্বপ্ন দেখে তার একটা ফ্ল্যাট হবে। যেখানে কেউ তার বাসায় মেহমান আসা নিয়ে ছোক ছোক করবে না।
এই দেশের মানুষের নেশা হলো ফ্ল্যাট। স্বপ্ন হলো জমি। চিন্তা সব ল্যান্ড বেইসড।
বাঙলাদেশের রপ্তানী বাণিজ্য বাদে, দেশের ভেতরের ব্যবসার কথা যদি বলি তাহলে সবচেয়ে বড় খাত হলো রিয়াল স্টেট আর কন্সট্রাকশন। এই দেশে মানুষ পাগলের মত জমি কিনে আর বিল্ডিং বানায়। এমনকি সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন বরাদ্দের (এডিপি) সিংহভাগ ব্যয় হয় বিল্ডিং বানাইতে। সরকারের নেশাও বিল্ডিং বানানো, জনগণের নেশাও বিল্ডিং বানানো।
রিয়াল স্টেট কম্পানিগুলো ফ্ল্যাট বানায় আর সেগুলো মধ্যবিত্তদের কাছে বিক্রি করে। মধ্যবিত্তরা সেগুলোতে থাকে অথবা ভাড়া দেয়।
কিন্তু কোনদিন দেখবেন না যে রিয়াল স্টেট কম্পানি নিজে সেই বিল্ডিং ভাড়া দিচ্ছে। সে বিল্ডিং বানাবে, ফ্ল্যাট বিক্রি করবে। কিন্তু ফ্ল্যাট ভাড়া দিবে না। যদি ভাড়া দেওয়া লাভজনক হতো তাহলে বসুন্ধরা, রূপায়ন, কনকর্ড, ইস্টার্ন গ্রুপদের দেখতেন বিল্ডিং বানিয়ে ভাড়া দিচ্ছে। কিন্তু এমনটা আমরা কোনদিন দেখিনি। এই ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা করে ঢাকার বোকা বাড়িওয়ালারা। গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ কখনো এই বোকা ব্যবসায় আসে না।
আমি নিজে যে ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকি তার বাজারমূল্য আর মাসিক ভাড়া যদি তুলনা করি তাহলে ৮৭ বছর ধরে ভাড়া জমালে আমি সেই ফ্ল্যাটটা কিনতে পারবো। অর্থাৎ আমার বাড়িওয়ালা যে ইনভেস্ট করেছেন, সেটা তুলে আনতে তার ৮৭ বছর লাগবে। অথচ দুনিয়ার সবচাইতে বাজে ইনভেস্টমেন্ট অর্থাৎ ব্যাংকে টাকাটা ফেলে রাখলেও মাত্র ১৬ বছরে টাকা দ্বিগুণ হয়ে ফিরে আসতো। গাণিতিক হিসাবে ফ্ল্যাট কেনা বাজে ইনভেস্টমেন্ট। শুধু বাজে না। ব্যাংকে টাকা রাখার চাইতে ৫ গুণ বাজে ইনভেস্টমেন্ট।
কিন্তু এই কথা প্রকাশ্য বললে বা গবেষণা করলে ল্যান্ড বেইজড নেশনের লোকজনের ল্যান্ডানুভূতিতে এমন আঘাত লাগবে যে নিন্দায় টেকা যাবে না।
47 · Messageএই প্রসঙ্গে মধ্যযুগ বিশেষজ্ঞ মমতাজুর রহমান তরফদার বলেন যে হোসেন শাহী সুলতানদের ধ্যান জ্ঞান ছিল ল্যান্ড বেইজড রেভেন্যু। স…
5 October 2026Nearby in the feed
Wthis message
W